জহিরুল
ইসলাম : গত ২১শে ডিসেম্বর রবিবার মঠবাড়িয়া প্রতিদিন দুস্থ সহায়তা তহবিলের
উদ্যোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১০০ জন অতিদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল
বিতরণ করা হয়।
এর আগে মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের পাঠকদের প্রতি দুস্থদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান
জানানো হয়। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনাব নাসির উদ্দিন, জিয়ানগর, পিরোজপুর, মোঃ আনছার উদ্দিন, চেয়ারম্যান, এভারগ্রিন
কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, মো. মিজানুর রহমান নয়ন, সিনিয়র প্রভাষক, ক্যামব্রিয়ান কলেজ, ঢাকা, মোহাম্মদ সেলিম, সৌদি প্রবাসী মঠবাড়িয়াবাসী, ইসরাত জাহান মমতাজ, জিডিআরসি, মঠবাড়িয়া, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, আমড়াগাছিয়া, ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ আহমেদ মিঠু, মঠবাড়িয়া ও মোঃ আলতাফ হোসেন ফরাজী, প্রবাসী
মঠবাড়িয়াবাসী অর্থ সহায়তা পাঠান। সর্বমোট ১৩ হাজার ৭৯৩ টাকা।
১৩ হাজার ৭৯৩ টাকার বিপরীতে ১০০টি কম্বল কেনা হয় ১৭,০০০ টাকায়।
মঠবাড়িয়া পর্যন্ত সেগুলো পৌঁছাতে কুলি, সদরঘাট, লঞ্চভাড়া, তুষখালী ঘাট ও ভ্যানগাড়ি
ভাড়া বাবদ আরও ৮৫০ টাকা খরচ হয় (কোনো লোকের যাতায়াত খরচ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা
হয়নি )। ৪০৫৭ টাকা মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের তহবিল থেকে খরচ করা হয়।
মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কম্বলগুলো বিতরণের ইচ্ছা থাকলেও
নির্দিষ্ট সময়ে বন্দুকের লাইসেন্স নবায়নের কারণে হলটি খালি পাওয়া যায়নি। তাই
উপজেলা পরিষদ চত্বরে খোলা জায়গায় কম্বলগুলো বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠান ছিল
একেবারেই আড়ম্বরহীন। যাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে হাতে আগেই মঠবাড়িয়া
প্রতিদিনের সদস্যরা স্লিপ পৌঁছে দিয়েছিলেন। এখানে বিতরণের জন্য ৮০টি স্লিপ আগে
থেকে বিতরণ করা হলেও উপস্থিত গরিব দুয়েকজনকে আরও নয়টি কম্বল প্রদান করা হয়। বাকি
দশটি কম্বল (মঠবাড়িয়ায় কম্বল গুনতে গিয়ে একটি কম্বল কম পাওয়া যায়) পরদিন সকালে মঠবাড়িয়ার
প্রত্যন্ত একটি গ্রামে বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসানসহ আমি বিলি করি।
পুরো কাজটি করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আমাদের গ্রামগুলোয় এ ধরনের মানবিক
সাহায্যের প্রচুর প্রয়োজন রয়েছে। ১৭০ টাকা দামের একটি মাত্র কম্বল একেকজন গরিব
বৃদ্ধার মুখে যে পরিমাণ হাসি জুগিয়েছে তাতেই তাদের প্রয়োজনের কথা অনুমান করা যায়।
যারা অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছেন তাদের প্রতি মঠবাড়িয়া প্রতিদিনের পক্ষ
থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। পাঠকরা এগিয়ে এলে আমরা এ ধরনের আরও উদ্যোগ এগিয়ে
নিতে পারি।
